রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রুহুল (১৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীনের বিরুদ্ধে। গত ১৬ অক্টোবর উপজেলার বাড়ইপাড়া (সরদারপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রুহুল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ অক্টোবর মারা যান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রুহুলের বড় খালা রাজিয়া বেগম মাছের ব্যবসা করেন বলে তাঁদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার অজুহাতে বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহার করেন শাহীন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে রুহুলকে মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মা রজিনা বেগম জানান, শাহীন তাঁর ভাতিজা। শাহীনের বড় ছেলের বিয়েতে তাঁকে ও তাঁর বড় বোন রাজিয়া বেগমকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দাওয়াত দেওয়ার এক দিন পর শাহীন তাঁকে জানান, তাঁর বড় বোন মাছের ব্যবসা করেন। হাটবাজারে ব্যবসা করার কারণে তাঁরা বিয়েতে গেলে পরিবারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন হবে। এ কারণে তাঁদের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়।
রজিনা বেগম বলেন, দাওয়াত দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়ায় তাঁরা অপমানিত বোধ করেন। পরে তিনি বাড়ি ছেড়ে বোনের বাসায় চলে যান। দুই বোন মিলে সন্তানদের নিয়ে নিজেরাই রান্না করে খেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তাঁরা বাড়িতে ফেরেন। পরে শাহীন, তাঁর ছেলে স্বাধীনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা মারধর করতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাঁরা বাড়ির বাইরে যান। পরে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে ফিরে এসে রুহুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল এবং তিনি অচেতন ছিলেন।
রুহুলের বড় খালা রাজিয়া বেগম বলেন, অভাবের সংসার হলেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে কষ্ট করে মাছের ব্যবসা করেন। তাঁকে দাওয়াত দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ায় তাঁর বোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে যাননি। এরপর তাঁর সন্তানতুল্য ভাগনেকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান রাজিয়া।
অভিযুক্ত শাহীনের চাচা মুন্তাজও ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীন বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তাঁদের বিরোধ রয়েছে। ঘটনার সময় শাহীনের হাতে জ্বলন্ত বস্তু এবং স্বাধীনের হাতে হাতুড়ি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এসব দিয়ে রুহুলকে আঘাত করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শাহীন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ১৯ অক্টোবর তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন স্থানীয় কেউ বা পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি। ফলে সেদিন পুলিশের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে যাননি।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি, এমন তথ্য সঠিক নয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা যে-ই হোক, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রুহুলের বড় খালা রাজিয়া বেগম মাছের ব্যবসা করেন বলে তাঁদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার অজুহাতে বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহার করেন শাহীন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে রুহুলকে মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মা রজিনা বেগম জানান, শাহীন তাঁর ভাতিজা। শাহীনের বড় ছেলের বিয়েতে তাঁকে ও তাঁর বড় বোন রাজিয়া বেগমকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দাওয়াত দেওয়ার এক দিন পর শাহীন তাঁকে জানান, তাঁর বড় বোন মাছের ব্যবসা করেন। হাটবাজারে ব্যবসা করার কারণে তাঁরা বিয়েতে গেলে পরিবারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন হবে। এ কারণে তাঁদের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়।
রজিনা বেগম বলেন, দাওয়াত দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়ায় তাঁরা অপমানিত বোধ করেন। পরে তিনি বাড়ি ছেড়ে বোনের বাসায় চলে যান। দুই বোন মিলে সন্তানদের নিয়ে নিজেরাই রান্না করে খেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তাঁরা বাড়িতে ফেরেন। পরে শাহীন, তাঁর ছেলে স্বাধীনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা মারধর করতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাঁরা বাড়ির বাইরে যান। পরে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে ফিরে এসে রুহুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল এবং তিনি অচেতন ছিলেন।
রুহুলের বড় খালা রাজিয়া বেগম বলেন, অভাবের সংসার হলেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে কষ্ট করে মাছের ব্যবসা করেন। তাঁকে দাওয়াত দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ায় তাঁর বোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে যাননি। এরপর তাঁর সন্তানতুল্য ভাগনেকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান রাজিয়া।
অভিযুক্ত শাহীনের চাচা মুন্তাজও ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাহীন ও তাঁর ছেলে স্বাধীন বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তাঁদের বিরোধ রয়েছে। ঘটনার সময় শাহীনের হাতে জ্বলন্ত বস্তু এবং স্বাধীনের হাতে হাতুড়ি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এসব দিয়ে রুহুলকে আঘাত করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শাহীন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ১৯ অক্টোবর তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন স্থানীয় কেউ বা পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি। ফলে সেদিন পুলিশের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে যাননি।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি, এমন তথ্য সঠিক নয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা যে-ই হোক, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
বিয়ের দাওয়াত প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক